পদ্মফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান

“পদ্মফুল” সৌন্দর্য, পবিত্রতা ও আত্মদর্শনের প্রতীক।
পদ্মফুল, প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। কাদামাটির ভেতর জন্ম নিয়েও সে যেমন পরিষ্কার, তেমনি তার সৌন্দর্যও মন ছুঁয়ে যায়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও প্রাচীন সভ্যতায় পদ্মফুলকে পবিত্রতা, জ্ঞান, আত্মদর্শন ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। পানি ও কাদা থাকলেও পদ্ম তার সৌন্দর্য হারায় না—এ যেন জীবনের প্রতীক, যেখানে প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে আলো ও আশার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা লুকিয়ে থাকে।

পদ্মফুল আমাদের শেখায়—

  • যতই কাদা থাকুক, নিজের সৌন্দর্য ভুলে যেও না।
  • প্রকৃত পবিত্রতা আসে ভেতর থেকে।
  • প্রতিকূলতার মাঝেও শান্ত ও স্থির থাকা যায়।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আমাদের আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি, পদ্মফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান। আপনারা যারা পদ্মফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান অনুসন্ধান করে চলেছেন, তারা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি ফলো করুন এবং সংগ্রহ করুন পদ্মফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান। এবং শেয়ার করুন পছন্দের মানুষের সাথে।

পদ্মফুল নিয়ে ছন্দ

  • পুকুরে ফোটে পদ্ম,
    থাকে সে জলের মধ্যে,
    রূপ তার মনোমুগ্ধকর,
    যেন প্রকৃতির এক সুন্দর উপহার। 

  • পদ্মফুল
    সাদা, গোলাপি, নানান রঙে
    জলের বুকে ভাসে,
    ধ্যানমগ্নতা আনে মনে। 

  • পদ্মফুলে
    ভোরে শিশির কণা,
    যেন মুক্তোর মালা,
    আলো ঝলমল করে সারা। 

  • পদ্মফুলের
    পাপড়ি মেলে
    আলো ছড়ায়,
    শান্তি এনে দেয় মনে।  
  • কাঁদার মাঝে ফোটে ফুল,
    নাম তার পদ্ম, অনুপম ভুল।
    পবিত্রতায় ভরা মন,
    জীবনে আনে আলোর ঝনঝন।
  • পদ্মফুল বলে, “আমি নই কাদা,
    তবুও জন্ম আমার সেখানে বাঁধা।”
    জলে ভেসে থাকি নীরব,
    তবুও সৌন্দর্যে অতুলনীয় চিরসব।
  • পদ্মফুল কাঁদা চেনে,
    তবুও মলিনতা সে কি নেনি?
    নিজ আলোয় দীপ্ত থাকে,
    শান্ত সৌন্দর্য ছড়িয়ে রাখে।
  • কাদা কভু দাগ দেয় না,
    পদ্ম যে তাতে হাসে না কাঁদে না।
    নিজ সৌন্দর্যে করে জয়,
    বিপদে থেকেও ভেঙে যায় না।
  • জলে ভেসে পদ্ম বলে,
    “মন রাখো পবিত্র, দুঃখে না চলো দলে।”
    ভালোবাসা থাক সবার মনে,
    সৌন্দর্য ফুটুক নির্জনে।
  • কাঁদা থেকে আলোর ফোঁটা,
    পদ্ম তার নাম, সে তো অনন্য ছোটা।
    নীরবে সে বলে কথা,
    জীবনে চাই দৃঢ়তা।
  • পদ্ম তুমি নীরব ধ্বনি,
    সুন্দরতা নয়, তুমি এক গহিন।
    তোমায় দেখে শিখি আমি,
    কষ্টে থাকলেও ভাঙা যাই না।
  • তুমি পদ্ম, শান্ত সৌরভ,
    চোখে রাখো স্বপ্নের আলোছায়া রঙ।
    পেছনে কাঁদা, তবু তুমি ধবল,
    মন তোমার যেন গানের দল।
  • জলে ভেসে পদ্ম হাসে,
    কাঁদা তাকে কিছুই না বাসে।
    নিজ রূপে সে আলোকিত,
    সংগ্রামে সে চিরজীবিত।
  • পদ্ম বলে, “আমি কষ্ট সই,
    তবুও বাঁচি, দীপ্তি বই।”
    শান্ত মন আর দৃপ্ত চোখে,
    জীবন তার শিখায় সুখে।
  • পদ্ম যখন ফোটে ভোরে,
    কাঁদাও তখন হাসে নাড়ে।
    শুদ্ধতায় পূর্ণ প্রাণ,
    তাকে দেখে শান্তি পান।
  • কাঁদা বলে, “আমি তার শেকড়”,
    পদ্ম বলে, “আমি তার শেষ প্রহর।”
    একসাথে তারা জীবন গড়ায়,
    বিপরীতেই সৌন্দর্য সাজায়।
  • যার হৃদয়ে পবিত্রতা,
    তার চোখে ফোটে পদ্মফুল কথা।
    কাদা যতই নোংরা হোক,
    মনের আলোতেই সে সুখলোক।
  • পদ্ম বলে—”দেখো আমায়,
    চেনো কষ্ট আর আলো-ছায়া।
    জীবনের দাগ যেন রঙ হয়ে,
    তোমার মাঝে আলো বয়ে।”
  • পদ্ম তুমি, আমার প্রাণের গান,
    তোমায় ছুঁয়ে যায় মনের তোরণ।
    সততার রঙে বোনা তোমার রূপ,
    তুমি হাসো, থেকো অনন্তরূপ।

পদ্মফুল নিয়ে কবিতা

পদ্মফুল

আমার সেদিনকার মেঘলা আকাশ
চায়ের চুমুকে তোমার আভাস।
ভুলেছি আমার আমি কে,
তোমার ভূমিকায় হারাই নিজেকে।

পদ্ম বনে কে ছিল সে,
তুমি হীনা জীবন দিবা নিশি যে।
অন্ধকারে পথ ভুলে যাই,
পদ্মবনের ঝোপের মেলায়।

নামি বেনামি কত কিছু তুমি,
সে পদ্ম আমার সে পদ্ম তুমি।
সে পদ্মের মন মাতানো রূপ,
আমি আবারো হারাই তোমার দেবীর শতরুপ।

হে পদ্মাবতী রচয়িতা আমি,
তুমি সে রূপসী মেয়ে চোখে হারানো বাকি।
হ্যা গজদন্তিনী প্রিয়সখা আমার,
বহ্নি অনলে পুড়ছি রোজ ই।

তুমি সে অনল,আমার বহ্নি,
রুখে দাঁড়ানোর অভ্যেসে মন ভোলানো আঁখি।
কি নামে ডেকে বলবো বলো তো!
তোমার রুপের বিশের বাঁশি দংশিল মনের সর্বত।

পদ্মের ডালি

কচুরিপানার ভিড়ে,
ফোটে লাল পদ্ম,
যেন এক টুকরো আগুন,
জ্বলে রোদ ঝলমলে। 

পাপড়িগুলো রক্তিম আভায়,
যেনো ভালোবাসার রঙ,
ভরে যায় মন,
যেনো নতুন জীবনের ঢং। 

পানির বুকে ভাসে,
যেনো স্বপ্নিল ছবি,
শান্ত স্নিগ্ধ,
যেনো হৃদয়ের রবি।

কাদার মাঝেও তুমি,
সুন্দর হয়ে ওঠো,
সবার মাঝে তুমি,
অন্যরকম আলো ছড়াও। 

পদ্ম তুমি,
পবিত্রতার প্রতীক,
তোমার সৌন্দর্য,
চিরন্তন দিক।

কেউ কথা রাখেনি

               – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভুক অমবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই বোষ্টুমি আর এলো না
পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি ।

মামাবাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে !
নাদের আলি, আমি আর কত বড় হবো ? আমার মাথা এই ঘরের ছাদ
ফুঁরে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায় তিন প্রহরের বিল দেখাবে ?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্কর বাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি ভেতরে রাস উৎসব
অবিরল রঙ্গের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পড়া ফর্সা রমণীরা কতরকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি !
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন আমরাও…
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবে না !

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এরকম আতরের গন্ধ হবে !
ভালবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি
দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮ টি নীলপদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে কোন নারী !
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনা !

পদ্মফুল নিয়ে গান

  1. পদ্মফুলে জল থইথই,
    রূপালি আলোয় ভুবন জয়ী।
    শাপলার সাথে মিতালী তার,
    শান্ত নীরবতা, স্নিগ্ধ উপহার।
  2. পদ্মার ঢেউ রে —
    মোর শূণ্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে।
    এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
    আমি হারায়েছি তারে।।
    মোর পরান–বঁধু নাই, পদ্মে তাই মধু নাই (নাই রে)
    বাতাস কাঁদে বাইরে, সে সুগন্ধ নাই রে
    মোর রূপের সরসীতে আনন্দ–মৌমাছি নাহি ঝঙ্কারে রে।।
    ও পদ্মারে —

শেষ কথা: আজকের এই বিশৃঙ্খল জীবনে পদ্মফুল আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শুদ্ধতা, ধৈর্য ও আত্মশক্তির মাঝে প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *