বর্ষার কামিনী ফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান

বর্ষা মানেই নতুন প্রাণের স্পন্দন। আর সেই বর্ষায় কামিনী যেন প্রকৃতির প্রথম প্রেম। সন্ধ্যাবেলায় বৃষ্টি নামার পর বাতাসে যখন কামিনী ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন মনটা এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরে যায়।কামিনী ফুল শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, আমাদের সাহিত্যে, গান ও কবিতাতে ও জায়গা করে নিয়েছে বহুবার। প্রেম, প্রতীক্ষা ও স্মৃতির প্রতীক হিসেবে কবির কলমে কামিনী বারবার ফিরে এসেছে। কামিনী যেন এক অনুভূতির নাম, এক গভীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

প্রিয় কামিনী ফুল প্রেমি বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম। আশা করছি আপনারা সকলে ভালো আছেন। আপনাদের সামনে আরও একটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা তুলে ধরেছি বর্ষার কামিনী ফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান। আপনারা যারা এই বর্ষায়, অনলাইনে কামিনী ফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান অনুসন্ধান করে চলেছেন, আমাদের আজকের আর্টিকেলে তাদের স্বাগতম। এই আর্টিকেলটি থেকে আপনারা বর্ষার কামিনী ফুল নিয়ে ছন্দ, কবিতা ও গান সংগ্রহ করে শেয়ার করতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে।

বর্ষার কামিনী ফুল নিয়ে ছন্দ

  • আমার বাগে ফুল ফুটেছে
    সেতো তোমার জন্য
    তুমি যদি আসতে বাগে
    হতাম আমি ধন্য।
  • কামিনীর ঐ ডালে ডালে
    দেখো কত ফুল যে
    দাও না বন্ধু দাও না তুলে
    সাজিয়ে দাও চুল যে।
  •  আহা কত স্নিগ্ধ দেখো
    ছড়িয়ে আছে পাতায়
    দুধ সাদা ফুল তাতে বসে
    জড়িয়ে রাখে ছাতায়।
  • ছায়া দিয়ে মায়া দিয়ে
    শুভ্রতা ছুয়ে ছুঁয়ে
    বৃষ্টি ঝরা একটি ক্ষণে
    মুগ্ধতা পড়ে চুয়ে।
  • ভেজা পাতায় ভেজা ফুলে
    ভালবাসাতে ভরপুর
    এমন দিনে দূরে তুমি
    হৃদয়টা ভেঙ্গে চুরচুর।
  •  ঝরে যাবো মরে যাবো-যাবো ধূলায় মিশে
    পারো যদি এসো তুমি-বাঁচাও্
    নইলে হারাবো দিশে……
    বেঁচে আছি অল্প ক্ষণ তোমার অপেক্ষায়
    কেনো তুমি রাখো শুধু তোমার উপেক্ষায়।
  •  সাদা ফুলের ঘ্রাণ যে রাখছি তোমার জন্য তুলে
    এসে তুমি নিয়ে যেয়ো -যেয়ো নাকো ভুলে
    বোতল ভরা কামিনীর ঘ্রাণ-নিতে এসো যদি
    তোমার জন্য অপেক্ষাতে থাকব নিরবধি।
    সাথে দিবো ভালবাসা-বুক পকেটে রেখো
    আমার স্বপ্ন ভুলেভালে একবার তুমি এঁকো। (মাত্রা ছাড়া হাহাহাহ)
  •  সবুজ শাড়ি সাদা পাড়ের
    দিবে কিনে বন্ধু
    ভালবাসব জেনে রেখো
    তোমায় এক সিন্ধু।
  •  ফুলের বাগে প্রজাপতি
    দেখবে এসো ত্বরা
    কেমন সুন্দর ফুলে ফুলে
    সাজানো এ ধরা।
    মুগ্ধ তুমি হবে শুনো
    আমার পাশে থাকলে
    জীবন তোমার সুন্দর হবে
    আমার ছবি আঁকলে।
  •  তুমি বন্ধু কামিনী ফুল
    আমি সবুজ পাতা
    আমার বুকে তোমার জন্য
    প্রেমের বিছনা পাতা।
  • গুনগুনিয়ে গেয়ো তুমি
    ভালবাসার গান যে
    ফুলের ঘ্রাণে জীবন মাতাল
    উতলা এ প্রাণ যে।
  •  লিখতে লিখতে হাতটা ব্যথা
    তোমার খবর নাই তো
    ফুলের মালা গেথে রাখি
    সবই হলো ছাইতো।
  • শুভ্র ফুলের পাপড়িগুলো
    দিলাম চিঠির পাতায়
    তুমি বন্ধু আমার নামটি
    লিখো মনের খাতায়।
  •  আমি তোমার ফুলের কুঁড়ি
    ভালবাসার এক ফুল
    ছুঁয়ে দিলে ঝরে যাবো
    করো নাকো ভুল।
  •  এমন স্নিগ্ধ প্রহর বন্ধু
    ডাকছে হাত বাড়িয়ে
    তোমার জন্য আছি দেখো
    অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।
  • ফুলের পাপড়ি হাতে রাখা
    দিবো তোমার মাথায়
    ঘ্রাণে তুমি হবে মাতাল
    স্মৃতি মনের পাতায়।
  • তুমি আমি পাশাপশি
    দেখো আছি বসে
    দুজন মিলে মনে মনে
    যাচ্ছি হৃদয় চষে।
  • সবুজ সাদা প্রেমের বাড়ি
    তোমার আমার বাস যে
    তুমি আমি মিলে করবো
    ভালবাসার চাষ যে।
  • সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে,
    বাতাসে মিশে যায়,
    কামিনী ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ,
    মনকে মাতিয়ে যায়।
  • “বর্ষা রাতে কামিনী”
    কামিনী ফুলে ভরে যায়,
    বর্ষা বৃষ্টি ঝরে যায়।
    ঘ্রাণে মেতে মনটা হারে,
    কোন অভিমানে হৃদয় কারে?

কামিনী ফুল নিয়ে কবিতা

চাঁদের সাথে কামিনী

চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ে,
স্নিগ্ধ সেই বাগানে,
কামিনীরা দোলে হাওয়ায়,
সুগন্ধ মিশে গানে।

কামিনীর পরশ

শুভ্র কোমল পাপড়িগুলো,
স্নিগ্ধতারই ছোঁয়া,
হৃদয়ের মাঝে ফুটে থাকে,
প্রেমের মিষ্টি বোধ।

কামিনীর অপেক্ষা

হেমন্ত এলো, শীতও এলো,
ফুল ফুটল গাছে,
কামিনীর সেই স্নিগ্ধতায়,
মন হারালো কাছে।

কামিনীর ভালোবাসা

তোমার চোখে কামিনী ফুল,
তোমার মনে সুবাস,
ভালোবাসার চিঠি লিখি,
এই ফুলেরই আশ।

“কামিনী সন্ধ্যা”
সন্ধ্যার ছায়ায় নামে বৃষ্টি,
পাতায় বাজে সুর।
কামিনী ফুলে মিশে যায়,
মন যে কেমন দুর।

পথের ধারে গন্ধ আসে,
তোমার স্মৃতির মত—
ভেজা বাতাস বলে যেন,
“হারায়ে গেছো কত!”

আকাশ কাঁদে, আমিও কাঁদি,
তবু ফুল ফোটে ঘরে।
এই বর্ষাতে কামিনী ফুল,
তোমাকেই আজ ধরে।

কামিনী ফুল 

        ছি ছি সখা কি করিলে,    কোন্‌ প্রাণে পরশিলে

              কামিনীকুসুম ছিল বন আলো করিয়া–

        মানুষপরশ-ভরে            শিহরিয়া সকাতরে

              ওই যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া।

        জান ত কামিনী সতী,       কোমল কুসুম অতি

              দূর হ’তে দেখিবারে, ছুঁইবারে নহে সে–

        দূর হ’তে মৃদু বায়,          গন্ধ তার দিয়ে যায়,

              কাছে গেলে মানুষের শ্বাস নাহি  সহে সে।

        মধুপের পদক্ষেপে          পড়িতেছে কেঁপে কেঁপে,

              কাতর হতেছে কত প্রভাতের সমীরে!

        পরশিতে রবিকর           শুকায়েছে কলেবর,

        শিশিরের ভরটুকু সহিছে না শরীরে।

        হেন কোমলতাময়          ফুল কি না-ছুঁলে নয়!

              হায় রে কেমন বন ছিল আলো করিয়া!

        মানুষপরশ-ভরে            শিহরিয়া সকাতরে,

              ওই যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া!

 

শেষ কথা: কামিনী ফুলের সৌন্দর্য শুধু চোখকেই শান্ত করে না বরং এর গন্ধ মন ভালো করে দেয়। বর্ষার দিনে কামিনী আমাদের এক অনুভূতি, স্মৃতি ও ভালোবাসার নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *