বাবা দিবসে বাবা-কে নিয়ে ছড়া ও কবিতা। Father’s Day poem.

“বাবা দিবস”
বাবা মানে ভরসার ছায়া, জীবনের প্রতিটি ধাপে শক্ত এক আশ্রয়। তাঁর ভালোবাসা শব্দে নয়, কাজে প্রকাশ পায়। আজ তাঁর জন্য ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার অশেষ সালাম। আজকের দিনটি সেই মানুষটির জন্য, যিনি নিজের স্বপ্নগুলো আমাদের হাসির পেছনে বিলিয়ে দেন। শুধু দায়িত্ব নয়, ভালোবাসারও আরেক নাম “বাবা”।
শুভ বাবা দিবস, সেই সব বাবাদের প্রতি যাঁরা নিরবে আমাদের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করে যান।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনারা যারা বাবা দিবস নিয়ে ছড়া ও কবিতা অনুসন্ধান করে চলেছেন, বাবা দিবসে বাবাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়ে দিনটিকে বিশেষ করে তোলার জন্য। তারা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি থেকে, খুব সুন্দর সুন্দর কিছু ছড়া ও কবিতা সংগ্রহ করুন, যা লিখা হয়েছে বাবাকে নিয়ে। এবং বাবাকে আবৃত্তি করে শুনিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করুন।

বাবা-কে নিয়ে ছড়া

বাবা আমার

বাবা আমার হাসে যখন পাঁপড়ি ফুল ঝরে,
পাঁপড়িগুলো পরশ বুলাই মায়ার আদর করে।
আমিও তখন হারিয়ে যাই অন্য জগৎ মাঝে,
মনের ভিতর শব্দ ঝরে আনন্দেও ঢোল বাজে।
স্বপ্ন খুশির পেখম মেলে আকাশ পাড়ে উড়ি,
হাসি মাখা মুখটি বাবার নাইকো রূপের জুড়ি।
বাবা যখন কাজের শেষে আদর দিতে আসে,
চিত্ত মাঝে নৃত্য করে আমোদে যায় ভাসে।
খোকা বলে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গনে মেখে,
মিষ্টি মুখো চুমো ঢালে বুকের মধ্যে রেখে।
তখন আমার হুশ থাকেনা কোথায় আছি আমি,
ঊাবা যে আমার ছায়া হয়ে থাকে ডানে বামই।
বাবা আমার শিক্ষা দেয় সৎ ও  নীতির বানীতে,
কখনো না ব্যস্ত থাকবি করতে পরের গ্লানিতে।
পরের ভালো খুঁজবি শুধু মন্দ কভু নয় যে,
খারাপ খুঁজে মন্দরা সব কাজটা তাদের হয় যে।
বাবার আদেশ পালন করি লালন করি বুকে,
বাবা মায়ের দোয়া নিয়ে আছি তো বেশ সুখে।

বাবার ছবি              

ডেডি বাপি পাপ্পা বলি
আব্বা বাবা ফাদার,
তুমি শুধুই তুমিই বাবা
বাদ বাকিরা আদার।

হাঁটতে গেলে আমার ছায়ায়
তোমার প্রতিচ্ছবি,
তুমি আমার কাব্য বাবা
আমি যখন কবি।

আমার শিরায় তোমার লোহিত
রক্ত চলে ববা,
তোমায় ছাড়া আমার জীবন!
যায় না মোটেই ভাবা।

এদিক তাকিই, ওদিক তাকাই
সব দিকেই তুমি!
এই ধর নাও- এই কবিতায়
আঁকা তোমার ছবি।

বাবা-কে নিয়ে কবিতা

বাবা
এ, বি, মিজানুর রহমান

ভূমিষ্ঠ হলে শিশু পৃথিবীতে
বেড়ে ওঠে বাবার হাতে।
পায়ে পায়ে হাঁটতে শেখান
নরম কোমল হাতে।
বুকে নিয়ে ঘুমান বাবা
আঁধার ঘরে রাতে।
চোখ রাঙালে মা জননী
বকে দেন মাকে।
সারা রাত জেগে থাকেন
অসুখ বিসুখে।
সেই বাবাই শাসক হন
শৈশব পেরুলে।
কৈশোরে চোখ রাঙানো
এদিক সেদিক হলে।
মনে হয় বাবার মত নিষ্ঠুর
বুঝিবা নাই পৃথিবীতে।
আসলে বাবা হলেন সু শাসক
চান না তিনি সন্তান নষ্ট হতে দিতে।
সব বাবারা চান
সন্তান যেন তার থাকে দুধেভাতে।
এই কথাটা বুঝি এখন
বড় হতে হতে।

বাবা
পল্লব কিশোর রায়

বাবার মতন ভালো,,
কখনো কেউ বাসেনি,,
সর্বস্ব উজার করে আলো।
বাবা ছিল বট বৃক্ষের ছায়া,
যার ছায়ায় ছিল আমার কায়া।সামন্য অসুস্থতায় আমি
ছিলেম যখন কাতর,
কাটিয়েছেন বাবা কত
নির্ঘুম রজনী,
আমার শিয়রে বসি।

কত সুখ, কত সাছন্দ,
তুমি দিয়েছ বিসর্জন,
আমাদের সপ্নীল
ভবিষ্যত নির্মানে।
তার শিকি ভাগ করিনি
আমি, তোমার অভাগা সন্তান।

আজ তোমার প্রস্থানে,
তোমারে মনে পড়ে খুব,
শত আধারে খুজে
ফিরি তোমায়।
কেদে ভাসাই বুক।

বাবা
মোঃ শাহানুর আলম শাফিন

বাবা তুমি বট বৃক্ষ
যার ছায়ায় প্রতিটি সন্তান সুরক্ষিত।
যেখানে এতোটুকু পাবে না ক্ষিপ্ত রোদ
যে জীবন ঝড়ের প্রতিবন্ধক।

তোমার চোখে দেখি জীবনের দর্পন
যার হাত ধরে করি নির্মম,নিষ্ঠুর জীবনে পদার্পণ।
সুচরিত্র গঠনে পরম শিক্ষাদাতা,
শত আঘাত যন্ত্রণার মাঝে
তুমি সান্ত্বনার আশা।

বাবা মানে শত শাসন সত্ত্বেও
এক নিঃসার্থ ভালোবাসা।
তোমার অসম্পুর্ণ সপ্নপূরণ,
আমার জীবনের প্রত্যাশা।

তুমি গল্পের আড়ালে থাকা এক মহানায়ক
যে গল্পের পরম নৈতিক শক্তি,
বাবা তোমার নিরব ভালোবাসা।

কোথায় আছ বাবা
নূর আলম গন্ধী

কোথায় আছ বাবা তুমি
খুঁজি তোমায় রোজ
সেই যে গেলে আর এলে না
কেউ কি জানো খোঁজ?

খুঁজে ফিরি দূর আকাশে
হাজার তারার ভীড়ে
আকুল হৃদয় গুণছে প্রহর
আসবে কবে ফিরে।

খুঁজে ফিরি তেপান্তরে
খুঁজি জনে জনে
আমায় ফেলে কই তুমি আজ
হারালে কোন বনে?

তোমার খোকা নেই ভালো নেই
বুকে ভীষণ ক্ষত
স্মৃতির পাহাড় হাতছানি দেয়
কাঁদায় অবিরত।

বাবা
মোঃ মামুন অর রশীদ

বাবা নামক যন্ত্র মানব
দুঃখ পেলে কভু
মুখ ফুটে কয়না কথা
নিরবে থাকে তবু।

পরিশ্রমের মালা গলায় পরে
ঘুরে বেড়ায় রোজ
শত কষ্টেও রাখে সে যে
প্রিয়জনদের প্রতি খোঁজ।

জীবন যুদ্ধে কেমন করে
জয়ী হতে হয়
ছোট্ট থেকে সেখায় মোদের
ভয়কে করে জয়।

সংসারটাকে সুখী করতে
জীবন রাখে বাজি
শত কষ্টেও না করেনা
যেন কষ্ট পেতে রাজি।

আমারও যে স্বপ্নের পুরুষ
শুধুই আমার বাবা
আমার কাছে তাই তো তিনি
মক্কা কিংবা কাবা।

কত আবদার কত চাওয়া
করছে তিনি পূরণ
প্রতিক্ষণে তাইতো তারে
আমি করি স্মরণ।

বাস্তবতার এই আসল হিরো কে
কোথায় গেলে পাবা
হাজার বছর থাকুক বেঁচে
মনের রাজ্যে বাবা।

নিজের বাবা শ্রেষ্ঠ বাবা
কে.এম.ওসমান গনি

বিপদে আপদে থাকেন বাবা
ছাতা মাথায় ধরিয়া
কাঁধে করে রাখেন বাবা
সন্তান কে তুলিয়া ।

নিজে না খেয়ে বাবা
সন্তানকে খাওয়ায়
ছেঁড়া জামা গায়ে দিয়ে
নতুন জামা পড়ায় ।

কত কষ্ট করেন বাবা
সন্তানের লাগিয়া
বড় হয়ে সন্তান যায়
সেই বাবাকে ভুলিয়া ।

বাবার মতো এতো আপন
আর কেহ তো নাই
চলে গেলে পৃথিবী থেকে
কোথায় পাবে ঠাঁই ।

নিজের বাবা শ্রেষ্ঠ বাবা
যতন করো তার
হারিয়ে গেলে খুঁজে কি
পাবে তুমি আর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *